শিবচর হাসপাতালে চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর হুশিয়ারি চীফ হুইপ লিটন চৌধুরীর

0
3

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সাথে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তিনি বলেন শিবচর হাসপাতালে এমনিতেই চিকিৎসক কম তার উপর চিকিৎসকরা শিবচরের বেতন নিবে আর ডেপুটেশনে অন্য জায়গায় চাকরী করবে এটা একটি অনৈতিক কাজ। আমি এর আগে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয়ের কাছেও এ ব্যাপারে বলেছি। এ হাসপাতালে যেখানে ২৬/২৭ জন চিকিৎসক সংকট আছে তার মধ্যে চার জন চিকিৎসক কিভাবে ডেপুটেশনে আছে তা আার বোধগম্য নয়। ডেপুটেশনে থাকার চেয়ে পদ শূন্য থাকা ভাল। খাতা-কলমে চিকিৎসক থাকবে আর রোগীর ডিউটি করবে না এ ব্যাপারে যিনি দায়িত্বে রয়েছেন আশা করি ব্যবস্থা নিবেন। আগামীতে যারা এখানে চাকুরী করবে না তারা শিবচর থেকে বেতন নিতে পারবে না। শিবচর পছন্দ না হলে বদলী নিয়ে পছন্দের জায়গায় চলে যাক কোন আপত্তি নেই।
জানা যায়, শনিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের সাথে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মুনির চৌধুরী, মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম(জেনারেল), উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন খান, পৌরসভার মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুস মোকাদ্দেস, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আ: লতিফ মোল্লা, সাধারন সম্পাদক ডা: মো: সেলিম, পৌরসভা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন তোতা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরন করে নেয়া হয়। এর আগে তিনি সন্নাসীরচর ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশন উদ্বোধন, দক্ষিন বহেরাতলা ইউনিয়নের সাহেরা নাসির ভোকেশনাল বি.এম ও কৃষি কলেজের নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন, উত্তর বহেরাতলা ইউনিয়নের আবু তাহের দাখিল মাদ্রাসার নতুন ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিদর্শন করেন।
তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য একটি বিশাল ব্যাপার। এখানে একবারে সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব না। তার পরও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের এই মৌলিক অধিকার সঠিকভাবে পেতে কাজ করছেন। ইতমধেই আপনারা দেখেছেন প্রতিটি জেলায় একটি করে নার্সিং ইনস্টিটিউশন ও হাসপাতালগুলোকে মেডিকেল কলেজ করা হচ্ছে। জেলায় জেলায় এই কলেজগুলো যখন হয়ে যাবে তখন অনেক সমস্যাই সহজে সমাধান করা সম্ভব হবে। প্রতিটি বিভাগের মেডিকেল কলেজগুলোকেও আরো পাঁচশত বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অতি শীর্ঘ্যই ভবনগুলোর ডিজাইন পরিবর্তন করা হবে। অল্প দিনের মধ্যেই মহিলাদের যে সকল সুযোগ সুবিধা থাকা দরকার তা আরো উন্নীত করা হচ্ছে। আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ক্লিনিকও নতুন করে ডিজাইন করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে খুব শীর্ঘ্যই কিডনি রোগীরদের জন্য আলাদা সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের ইএনও সাহেব আমার কাছে কিছু সমস্যা তুলে ধরেছে। তার মধ্যে রয়েছে জনবল সংকট, যন্ত্রপাতি সংকট রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। আশা করি খুব শীর্ঘ্যই কিছু কিছু সমস্যার সমাধান হবে। শুনলাম এর মধ্যে নাকি শিবচর হাসপাতাল থেকে পুলিশ বেসরকারী হাসপাতালের দালালদের আটক করেছে। এই সমস্যার সমাধান আপনাদেরই করতে হবে। হাসপাতাল থেকে যদি এই দালালী ব্যবসা বন্ধ করা না হয় তাহলেতো সমস্যা থাকবেই। সরকারী হাসপাতাল থেকে যদি রোগী অন্য জায়গায় পাঠানো হয় তাহলেতো এক্সরে মেশিনসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট হবেই। আমি আপনাদের শুধু বলবো সরকার আপনাদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বাড়িয়েছেন। সম্মান দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য সেবাকে অনেক বড় করে দেখা হচ্ছে। আপনাদেরও এখানে সময় দিতে হবে, মানুষকে সেবা দিতে হবে। এই পেশা মানুষের সেবা করার জন্য। এই পেশায় মানুষের সেবা করে যে দোয়া পাওয়া যায় তা অন্য পেশায় পাওয়া যায় না। আশা করি আপনারা মানুষের সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here