মাদারীপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ

0
107

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মাদারীপুরে চতুর্থ শ্রেণির এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে (১১) যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ঘটনার ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল অভিযুক্ত’র বড় ভাইসহ এলাকার প্রভাবশালিরা।

এলাকাবাসি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘাটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী প্রতিদিনের ন্যায় গত কয়েকদিন আগে মাদ্রাসায় যায়। একই মাদ্রাসার শিক্ষক খাইরুজ্জামানের কুদৃষ্টি পরে ওই ছাত্রীর উপর। সময় সুযোগ বুঝে খাইরুজ্জামান ছাত্রীকে শ্রেনী কক্ষে একা পেয়ে জরিয়ে ধরে গোপন স্পর্সকাতর স্থান গুলোতে হাত দিতে থাকে। এক পর্যায় ছাত্রী আর্তচিৎকার দিতে চাইলে ছাত্রীকে ছেড়ে দেয়। ছাত্রী বাড়ি গিয়ে তার পরিবারকে এ বিষয় জানায়। এ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের কাছে বিচারের দাবি জানায়।

অভিযুক্ত খাইরুজ্জামান ও তার বড় ভাই অত্র মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল সিব্বীর আহম্মেদ এলাকার প্রভাবশালিদের নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পরে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তথ্য আসে। খবর পেয়ে কর্মরত সংবাদ কর্মীরা ঐ মাদ্রাসায় অনুসন্ধানে গেলে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক খাইরুজ্জামানকে মাদ্রাসায় পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, খাইরুজ্জামান ভাইস প্রিন্সিপালের ছোট ভাই তাই সে যেকোন অপরাধ করলেও তার জন্য সাতখুন মাফ, তার বিচার কেউ করার সাহস পায় না। কেউ যদি প্রতিবাদ করে তাহলে সে ঝামেলায় পড়বে। এর আগেও সে এরকম জঘন্য কাজ করেছে। তার বিচার হয় নাই বলে পুনরায় এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। আমরা সবাই প্রিন্সিপাল স্যারকে বলবো এ বিষয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর মা বলেন, মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ করেছি। আমার ছোট মেয়ে বিভিন্ন লোকে বিভিন্ন প্রশ্ন করবে, তাই আমরা মানসম্মানের ভয়ে থানায় অভিযোগ করিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন , আমরা আমাদের সন্তানদের মানুষ করার জন্য মাদ্রাসায় লেখাপড়ার করাই । সেখানে যদি শিক্ষকের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়। তাহলে আমরা কার ভরসায় মাদ্রাসায় আমাদের সন্তানদের পাঠাবো। আমরা সবাই অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর বিচার চাই। একই সঙ্গে এ মাদ্রাসা থেকে তার অব্যাহতি চান অভিভাবকরা। যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

রবিবার এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক খাইরুজ্জামানের বড়ভাই মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল সিব্বীর আহম্মেদের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সততা স্বীকার করে বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, এ ব্যাপারে সংবাদ প্রচার করার দরকার নাই। আপনাদের সাথে আমি যোগাযোগ করবো।

খামারবাড়ি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। ভাইস প্রিন্সিপাল সিব্বীর আহম্মেদ তখন দায়িত্বে ছিলো, আমি বৃহস্পতিবার প্রথমে শুনি। পরে ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছি। এবং ঐ শিক্ষককে শোকাজ করেছি। মাদ্রাসার বোড মিটিংএ প্রতিষ্ঠানের আইননুযাই শিক্ষক খাইরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here