কালকিনিতে পালরদ্দি নদীর তীরে আধা কিলোমিটার জুড়ে ফাটল, হুমকির মুখে সড়ক

0
31

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পানি কমে যাওয়ার ফলে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পালরদ্দি নদীর তীরের বিভিন্নস্থান দেবে গিয়ে অস্বাভাবিকহারে বড়-বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে করে উপজেলা জনগুরুত্বপুর্ন শিকারমঙ্গল পাকা সড়কটি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ দিকে এ নদীর তীর দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেয়ায় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে অন্তত শতাধিক পরিবার। শুধু বসতবাড়ি নয়, ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে এই এলাকার একমাত্র যাতায়াতের ভরসা বড় ব্রিজটিও।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে পালরদ্দি নদী। শীত মৌসুমের কারনে এ নদীর পানি অস্বাভাবিক হাড়ে কমে গেছে। এ নদীর পানি কমে যাওয়ায় নদী থেকে বালু উত্তোলন ও বালুবাহী ট্রলার ঘনঘন যাওয়া-আসায় তোরের আঘাতে পালরদ্দি নদীর তীরের শিকারমঙ্গ এলাকার বড় ব্রিজে থেকে বদ্দারঘাট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার শিকারমঙ্গল পাকা সড়কের পাশ দেবে গিয়ে বড়-বড় ফাটল ধরেছে। এতে করে সড়ক ভাঙ্গন আসঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বড়-বড় ফাটল দেখা দিয়ে নদীর মধ্যে ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে ওই সড়কটি। উৎসুক জনতা তা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। ওই এলাকাবাসীর দাবি দ্রæত এ বিষয় ব্যবস্থা নেয়া হলে শিকারমঙ্গল সড়কটি পুরোপুরিভাবে নদীগর্ভে চলে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে নদীর পাড় দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুর পাউবি কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
শিকারমঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা কুলসুম বেগম বলেন, ভিটেমাটি সব হারিয়ে সবশেষ সম্বল ২ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করেছিলাম কুঁড়ের ঘর। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করে আসছি। কিন্তু নদীর পানি কমে যাওয়ায় ও বালু উত্তোলনের কারনে ভাঙন এখন আমার ঘরের কোণে এসে পৌচেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পাগলের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছি। কোথায় যাবো? কী করব? ভেবে পাচ্ছি না। তিনি আরো বলেন, পাড় দেবে গিয়ে ভাঙন যেভাবে দেখা দিয়েছে এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পাওে আমাদেও বসত বাড়ি ও গুরুত্বপুর্র শিকারমঙ্গল সড়কটিও।
পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা সাহেদ বলেন, পলরদ্দি নদী দিয়ে প্রতিদিন বালুবাহি ট্রলার ঘনঘন যাতায়াত করার কারনে নদীর পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। এবং কি ড্রেজারের কারনে নদীর পাড় দেবে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কোন ব্যবস্থা না নেয়া হলে জনগুরুত্বপুর্ন শিকারমঙ্ল সড়কটি ভেঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শিকারমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান শিরাজুল মৃধা জানান, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়ার সময় ও পানি কমার সময় ভাঙন দেখা দেয়। গত তিন বছরে অনেক ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। বিয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার অবহিত করে আসছি। কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড মাদারীপুর উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ হাসান কবির জানান, চলতি বছরে পালরদ্দি ও আড়িয়াল খা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, পালরদ্দি নদীতে প্রতি বছর পানি কমার সময় বেশি ভাঙছে। এ বছরও নদীর পাড় দেবে গিয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে ভাঙনের ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। ডিপিপি পাস হলেই শুরু হবে কাজ। তবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর দেবে যাওয়া স্থানগুলোতে আমরা ইতি মধ্যে পরিদর্শন করেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, নদীর তীর দেবের যাওয়ার বিষয়টি আমি জানি। তবে শিঘ্রই এ বিষয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here